in , ,

পেপের হাতেই উঠতে চলেছে ইপিএলের খেতাব

সুপ্রিয় অধিকারী

প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খেলা হয়ে যাওয়ার পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চিত্রটা আস্তে আস্তে পরিষ্কার হচ্ছে ।নতুন বছরের শুরুতে ম্যানচেস্টার সিটি লীগ শীর্ষে ওঠার পর থেকে প্রথম স্থানটি শুধু ধরে রাখে নি, দ্বিতীয় স্থানে থাকা পড়শী ম্যান ইউর থেকে ২৪ ম্যাচ শেষে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছে এবং যে ভঙ্গিতে খেলছে তাতে পেপের হাতে যে আবার প্রিমিয়ার লিগের খেতাব আসছে তা হয়তো এখনই বলে দেওয়া যায়। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ, এফএ কাপ, কারাবাও কাপ এবং প্রিমিয়ার লিগ এর খেলা একসাথে কেমনভাবে সামলায় তার উপর ম্যানচেস্টার সিটির খেতাব নির্ভর করবে।

তেসরা এপ্রিলের লেস্টারের সাথে ম্যাচের পর যদি এই ব্যবধান থাকে তাহলে ম্যানচেস্টার সিটি চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে এই দাবি করা যাবে। ভাবতে অবাক লাগে যে প্রায় দুমাস ধরে সিটি টানা আঠারোটি টি ম্যাচ জিতেছে। শেষ ড্র করেছে ওয়েস্ট ব্রমের বিপক্ষে ১৬ ই ডিসেম্বর। আগের একটা লেখায় লিখেছি যে এবছরের উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ম্যানসিটির রক্ষণ সংগঠন। রুবেন ডায়াস আসার পর থেকে তাঁর স্টোনের জুটি গোল খায়নি। ভ্যান-জিকের অভাবে যেখানে লিভারপুলের রক্ষণ ভঙ্গুর হয়ে গেছে সেখানে পেপের রক্ষণের প্রধান খেলোয়াড় লাপোর্তেকে দলে ঢোকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে । কঞ্চেলোকে যেভাবে প্রায় মাঝমাঠে ব্যবহার করে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন তা তারিফ করার যোগ্য। এবছর এখনো পর্যন্ত ম্যানসিটি যেখানে ৪৯ টি গোল করেছে সেখানে গোল খেয়েছে মাত্র ১৫ টি।মাঝ মাঠে গুন্দোগান, দি ব্রুইনির অভাব বুঝতে দিচ্ছেন না। আর মাত্র তিন বছর আগে কলকাতায় অনূর্ধ্ব সতেরো বিশ্বকাপ খেলে যাওয়া ফডেন কে গুয়ার্দিওলা স্টার বানিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে ম্যানসিটি নিয়ে শেষ কথা বলতে ভয় পাচ্ছি তা হল মরশুমের শেষ পর্যায়ে পরপর ম্যাচ। দি ব্রুইনির পর গুন্দোগানের চোট হলে ম্যানসিটির পরপর ম্যাচ খেলতে সমস্যা হতে পারে। তবে আশার কথা এই যে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর আগুয়েরো খেলার মধ্যে ফিরে আসছেন ।

বছরের শেষে যখন ম্যানইউ লিগের শীর্ষে ছিল তখন পণ্ডিতেরা বলেছেন এটা স্বল্প সময়ের জন্য। এখন যদিও ম্যানইউ, লেস্টার সিটি সাথে ৪৬ পয়েন্টে একই জায়গায় আছে, শুধুমাত্র গোল পার্থক্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কিন্তু শুধুমাত্র রক্ষণের জন্য প্রথম চারে শেষ করতে পারবে কিনা নিশ্চিত নয়। এভার্টনের বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচ ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে ড্র করে, তার আগে পরে শেষ দুটি স্থানে থাকা শেফিল্ড এর কাছে হার এবং ওয়েস্ট ব্রমের সাথে ড্র ম্যান ইউ কে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড় থেকে ছিটকে দিয়েছে। শেষ পাঁচ ম্যাচে সম্ভাব্য ১৫ পয়েন্ট এর মধ্যে মাত্র ৬ পয়েন্ট পেয়েছে। এখন লড়াই প্রথম চারে থাকার।

কোচ পরিবর্তন করার পর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে চেলসির । টুচেল আসার পর থেকে চেলসি কোনও ম্যাচ হারেনি। তার মধ্যে শেষ চারটি ম্যাচে জয়ের পর ৪২ পয়েন্ট নিয়ে লীগ টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে। পরের ২৫ দিনে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এর সাথে চাম্পিয়নস লীগে দুটি খেলা ছাড়াও সাউদাম্পটন,ম্যান ইউ,এভার্টন এবং লীডসের সাথে চেলসিকে খেলতে হবে। সেখানেই টুচেল দলে কতটা পরিবর্তন আনতে পেরেছেন তার পরীক্ষা হবে ।

লেস্টার সিটি শেষ ম্যাচে লিভারপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লীগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। গত বছরের মত শেষ লগ্নে হারিয়ে না গেলে আগামী বছর ইউরোপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে ।ব্রেন্ডন রজার্সের দলে এবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছেন তরুণ উইঙ্গার হার্ভে বার্নস। লিভারপুল ম্যাচে দু’বার ভার্দি কে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন । তারপর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেই গোল করেন। তার গতির সাথে লিভারপুলের রক্ষণ পেরে উঠলো না । রাশফোর্ড, সাকার পর ইংল্যান্ড কোচ সাউথগেটের কাছে নতুন সম্ভাবনা। অ্যালিসন বেকার এর কি হয়েছে তা তিনি বলতে পারবেন। ম্যানচেস্টার সিটি, লেস্টার সিটি- পরপর দুটো ম্যাচ বেকারের ভুলে হেরে গেল। অবশ্য বেকারের বক্স থেকে অনেকখানি বেরিয়ে আসা, পায়ে বেশ কিছুক্ষণ বল রাখা ইত্যাদি যেকোনো গোলকিপারের পক্ষেই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এতদিন লিভারপুল ডিফেন্স বেকারের এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলাকে সামলে এসেছে। কিন্তু এখন সেই রক্ষণ নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় বেকারের ভুলগুলি মারাত্মক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরপর তিনটি ম্যাচ হেরে লিভারপুল লীগ টেবিল ষষ্ঠ স্থানে নেমে গিয়েছে ।গতবছরের “মেন্টালিটি মনস্টার”রা এবার মানসিকভাবে ভীষণ ভঙ্গুর ।আমার মনে হয় ক্লপের আর দেরি না করে ওজান কাবাকের পাশে বেন ডেভিস বা ফ্যাবিনহো কে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে রেখে হেন্ডারসন কে তার পছন্দের হোল্ডিং মিডফিল্ডার পজিশনে তুলে আনা প্রয়োজন। আর বেকারকে কয়েকটা ম্যাচ বিশ্রাম দিতে পারেন ক্লপ। এরপরের দলগুলোর মধ্যে এভার্টন, অ্যাস্টন ভিলা, টটেনহ্যাম, আর্সেনালের খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে । বর্তমানে পাঁচ নম্বরে থাকা ওয়েস্টহ্যামকে পরপর সাতটি কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে। যার যার মধ্যে ম্যান সিটি, ম্যান ইউ, লেস্টার-সবাই আছে। ডেভিড মোয়েসের দল লীগ টেবিলের কোথায় শেষ করবে এই ম্যাচ গুলি ঠিক করে দেবে। আর অবনমন এর আওতায় থাকা শেফিল্ড, ওয়েস্ট ব্রম এবং ফুলহ্যামের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে এই তিনটি দলের অন্তত দুটি অবনমন এর আওতায় পড়ে যাবে।

What do you think?

Written by News Editor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পরিবর্তন যাত্রায় একটা দিন

পৃথিবীর দূষিততম রাজধানী হল নয়াদিল্লি